দক্ষিণ আফ্রিকায় বাংলাদেশি অপহরণ, মুক্তিপণ দাবি ২ কোটি ২৩ লাখ টাকা

দক্ষিণ আফ্রিকার ফ্রি স্টেট প্রদেশের ভিলিয়ার্স এলাকায় নাদিম হোসেন (৩৫) নামে এক বাংলাদেশি নাগরিককে অপহরণের অভিযোগ উঠেছে। তাঁর নিরাপদ মুক্তির বিনিময়ে পরিবারের কাছে ৩০ লাখ দক্ষিণ আফ্রিকান রেন্ড মুক্তিপণ দাবি করেছে সন্দেহভাজন অপহরণকারীরা। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ প্রায় ২ কোটি ২৩ লাখ টাকা। নাদিমের সন্ধানে জনসাধারণের সহায়তা চেয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার পুলিশ।

রোববার (১৮ অক্টোবর) স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৬টার দিকে ভিলিয়ার্স শহরের পিয়ারসন ও মেইন স্ট্রিটের সংযোগস্থলে নিজের নিসান কাশকাই গাড়িতে বসে ছিলেন নাদিম। এ সময় দুই অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি তাঁর গাড়িটি ছিনিয়ে নিয়ে তাঁকেও অপহরণ করে বলে পুলিশের কাছে অভিযোগ করা হয়েছে।

পরে ঘটনাস্থল থেকে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার দূরে গাড়িটি পরিত্যক্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। তবে গাড়ির ভেতরে নাদিমকে পাওয়া যায়নি। এরপর থেকে তাঁর অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

পুলিশের বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যমটি জানায়, অপহরণের পরদিন বুধবার (১৪ অক্টোবর) সন্দেহভাজন ব্যক্তিরা নাদিমের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে। এ সময় তাঁর নিরাপদ মুক্তির বিনিময়ে ৩০ লাখ রেন্ড দাবি করা হয়।

ঘটনাটি তদন্ত করছে ফ্রি স্টেট প্রদেশের গুরুতর ও সহিংস অপরাধবিষয়ক তদন্ত ইউনিট। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, সন্দেহভাজন ব্যক্তিরা সাদা রঙের টয়োটা করোলা, ভক্সওয়াগেন পোলো ক্ল্যাসিক অথবা সুজুকি ডিজায়ার গাড়িতে চলাচল করতে পারে।

নাদিমের সন্ধান কিংবা অপহরণের ঘটনায় কোনো তথ্য জানা থাকলে তা পুলিশকে জানানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।

এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত নাদিমকে উদ্ধার কিংবা সন্দেহভাজন অপহরণকারীদের গ্রেপ্তারের বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

১

জগন্নাথপুরে হত্যা মামলার আসামিদের বাড়িঘরে ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগ ​জগন্নাথপুর প্রতিনিধি: সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার মীরপুর ইউনিয়নের উত্তর গড়গড়ি গ্রামে একটি হত্যা ঘটনার পর প্রতিপক্ষের অন্তত বেশ কয়েকটি বাড়িঘরে দফায় দফায় হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগ উঠেছে।গত ১৮ অক্টোবর রাতে শূন্য বাড়িগুলোতে অগ্নি সংযোগ করা হয়। ভুক্তভোগীদের দাবি, জগন্নাথপুর থানা পুলিশ এ বিষয়ে কোনো মামলা নিচ্ছে না। হামলায় বসতঘর ও খামার থেকে গবাদিপশু, স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা লুট করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো অভিযোগ করেছে। ​ক্ষতিগ্রস্ত পক্ষ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই আসামিপক্ষের পরিবারগুলো চরম আতঙ্কে রয়েছে। কয়েকটি বাড়ি পুরো পুরুষশূন্য হয়ে পড়েছে। আর এই শূন্য বাড়িগুলোকে লক্ষ্য করে দফায় দফায় হামলা চালানো হচ্ছে। এমনকি গত রাতেও আসামিদের বসতঘরে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়। ​গতকাল ১৯ অক্টোবর সরেজমিনে উত্তর গড়গড়ি গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, পুরুষশূন্য বাড়িগু রয়েছে, পরিত্যক্ত বাড়িগুলোতে, দফায় দফায় অগ্নিসংযোগ করে যাচ্ছে, প্রতিপক্ষরা, থানায় অভিযোগ করলেও, কোন ব্যবস্থা নিচ্ছে না। ঘরের ভেতরের আসবাবপত্র ভেঙে চুরমার করে যত্রতত্র ছিটিয়ে রাখা হয়েছে এবং আগুনে পুড়িয়ে ছাই করে দেওয়া হয়েছে। ঘটনার পর থেকে পরিবারের পুরুষ সদস্যরা আত্মগোপনে থাকায় নারী ও শিশুরা চরম মানবেতর জীবনযাপন করছেন এবং বাধ্য হয়ে আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন। ​হামলা, লুটপাট ও ক্ষয়ক্ষতির ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে সুনামগঞ্জ আদালত ও জগন্নাথপুর থানায় মোট চারটি পৃথক লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। এর মধ্যে সুনামগঞ্জের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি সিআর মামলা (মামলা নং— ১৮৮/২০২৬) দায়ের করেছেন মোছা. ফাতেমা বেগম (৩৮)। এই মামলায় স্থানীয় ১৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।