বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের ‘ই-পার্লামেন্ট’ প্রকল্পের নাম পরিবর্তন করে ‘ই-বাংলাদেশ পার্লামেন্ট’ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি। একই সঙ্গে প্রকল্পের আওতাভুক্ত বিভিন্ন কাজে পুনরাবৃত্তি বা দ্বৈততা (ওভারল্যাপিং) আছে কি না, তা যাচাই করতে তিন সদস্যের একটি উপকমিটি গঠন করা হয়েছে।
মঙ্গলবার ( ২ নভেম্বর ) জাতীয় সংসদ ভবনে ‘ই-বাংলাদেশ পার্লামেন্ট’ প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির প্রথম সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সংসদ সচিবালয় থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
কমিটির সভাপতি ও ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে বৈঠকে অংশগ্রহণ করেন কমিটির সদস্য ও হুইপ এ বি এম আশরাফ উদ্দিন নিজান, নায়াব ইউসুফ আহমেদ, সাঈদ আল নোমান, হুমাম কাদের চৌধুরী, মোহাম্মদ নাজিবুর রহমান, আখতার হোসেন, লুৎফুল্লাহেল মাজেদ ও আন্না মিনিজ।
সভায় প্রকল্পের ওপর একটি উপস্থাপনা দেওয়া হয়। সংসদীয় কার্যক্রমকে আরও আধুনিক, গতিশীল ও প্রযুক্তিনির্ভর করে গড়ে তোলার লক্ষ্যে প্রকল্পের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়। এ সময় প্রকল্পের কার্যক্রম যথাযথভাবে বাস্তবায়ন, বিভিন্ন উপাদানের মধ্যে সমন্বয় এবং কাজের পুনরাবৃত্তি পরিহারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে গ্রহণযোগ্যতা ও পরিচিতির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে প্রকল্পের নাম ‘ই-পার্লামেন্ট’ পরিবর্তন করে ‘ই-বাংলাদেশ পার্লামেন্ট’ রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
প্রকল্পের আওতায় সাউন্ড সিস্টেমসহ অন্যান্য কার্যক্রমে কোনো ধরনের পুনরাবৃত্তি বা কাজের দ্বৈততা রয়েছে কি না, তা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই করতে তিন সদস্যের উপকমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির সদস্য সাঈদ আল নোমান, লুৎফুল্লাহেল মাজেদ ও আন্না মিনজকে নিয়ে গঠিত এ উপকমিটি সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় সুপারিশসহ প্রতিবেদন মূল কমিটির কাছে জমা দেবে।
সভা শেষে হুইপ এ বি এম আশরাফ উদ্দিন নিজান সাংবাদিকদের বলেন, ‘বাংলাদেশের জাতীয় সংসদকে যুগোপযোগী ও ই-পার্লামেন্টে রূপান্তরের আকাঙ্ক্ষা দীর্ঘদিনের। বাংলাদেশের মানুষ যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছে। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে তরুণেরা বুকের রক্ত দিয়ে নতুন করে সংসদে ভূমিকা রাখার সুযোগ তৈরি করেছেন। এটি আমাদের অঙ্গীকার। নাগরিকেরা যেন সরাসরি সংসদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন এবং পরিবেশের সুরক্ষা নিশ্চিত হয়, সে জন্য কাগজনির্ভর সংসদের পরিবর্তে কাগজবিহীন সংসদ গড়তে চাই।’
সংসদের প্রতিদিনের কার্যক্রমে কয়েক টন কাগজ ব্যবহার হয়, যা পরিবেশের ক্ষতি করে। ই-পার্লামেন্ট চালু হলে কাগজের ব্যবহার কমবে বলেও উল্লেখ করে আশরাফ উদ্দিন বলেন, সংসদের অধিবেশন, বিল ও আইন পাস, সংসদ সদস্যদের উপস্থিতি এবং ভোট দেওয়ার রেকর্ড অনলাইনে পাওয়া যাবে। এতে নাগরিকেরা তাঁদের নির্বাচিত প্রতিনিধির ভূমিকা সম্পর্কে জানতে পারবেন। অনলাইন পোর্টাল বা অ্যাপের মাধ্যমে আইনের খসড়ার ওপর মতামত দেওয়া এবং ই-পিটিশন দাখিলের সুযোগ থাকবে। এমনকি গ্রামের মানুষও নিজেদের অভিযোগ সরাসরি সংসদে জানাতে পারবেন।
নিজান আরও বলেন, সংসদের কার্যক্রম, বাজেট ও আইনের খসড়া ছাপাতে প্রতিবছর বিপুল অর্থ ব্যয় হয়। ই-পার্লামেন্ট চালু হলে কোটি কোটি টাকা সাশ্রয়ের পাশাপাশি পরিবেশের ক্ষতি কমবে। সংসদ ভবনে প্রবেশ ও অবস্থানের তথ্য ডিজিটাল পদ্ধতিতে সংরক্ষণ করা যাবে। এতে নিরাপত্তা, আসন ব্যবস্থাপনা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা সহজ হবে।
এমপি আখতার হোসেন বলেন, ই-পার্লামেন্টের তথ্য ও উপাত্তের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়টি নিয়ে কমিটিতে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সাইবার হামলায় ওয়েবসাইট, পোর্টাল ও সরকারি প্রতিষ্ঠানের তথ্য চুরি হচ্ছে। এ বিষয়ে ইউএনডিপি ও বাস্তবায়নের দায়িত্বে থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। ই-পার্লামেন্টের সব তথ্য ও উপাত্ত যেন হ্যাকারদের কবলে না পড়ে, সে জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করার পরই কার্যক্রম শুরু করতে চায় কমিটি।
সংসদ সদস্য হুমাম কাদের চৌধুরী বলেন, আগের সরকারের সময়ে সাইবার নিরাপত্তার জন্য যেসব প্রতিষ্ঠানকে কাজ দেওয়া হয়েছিল, তারা কাজ অসম্পূর্ণ রেখে চলে গেছে। পরবর্তী সময়ে প্রয়োজনীয় হালনাগাদও করেনি। ফলে নতুন করে সাইবার নিরাপত্তাব্যবস্থা গড়ে তুলতে হচ্ছে। এ খাতে যাদের দায়িত্ব দেওয়া হবে, তাদের বিষয়ে সংসদে প্রস্তাব তুলে অনুমোদন নেওয়া হবে।
বাস্তবায়নের সময়সীমা সম্পর্কে হুইপ এ বি এম আশরাফ উদ্দিন নিজান বলেন, ই-পার্লামেন্ট প্রকল্পের জন্য এখনো কোনো বরাদ্দ হয়নি। উদ্যোগটি প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। তাই নির্দিষ্ট সময়সীমা বলা যাচ্ছে না। তবে গতানুগতিক পদ্ধতির বাইরে গিয়ে দ্রুত বাস্তবায়নের চেষ্টা চলছে। আগামী ছয় মাস থেকে এক বছরের মধ্যে এ উদ্যোগের দৃশ্যমান অগ্রগতি হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।