শ্রম অসন্তোষের জেরে আজ মঙ্গলবারও দেশের ৪৬৯টি তৈরি পোশাক (আরএমজি) কারখানা বন্ধ রয়েছে। চলমান অস্থিরতায় সময়মতো পণ্য রপ্তানি এবং ক্রয়াদেশ (ওয়ার্ক অর্ডার) বাতিল হওয়ার আশঙ্কায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন কারখানার মালিকরা।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) রাতে বাংলাদেশ তৈরি পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সূত্র জাগো নিউজকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
ন্যূনতম ৩০ হাজার টাকা মজুরির দাবিতে গত কয়েকদিন ধরে পোশাক শ্রমিকরা ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ ও আন্দোলন চালিয়ে আসছেন। শ্রমিকদের মজুরি নির্ধারণে সুপারিশ দেওয়ার লক্ষ্যে গত ১ নভেম্বর সরকার ছয় সদস্যের একটি মজুরি বোর্ড গঠন করলেও আন্দোলন থামেনি।
বরং কাজে যোগ না দিয়ে বিক্ষোভ অব্যাহত রেখেছেন শ্রমিকদের একটি অংশ। এসময় বিভিন্ন কারখানায় ভাঙচুর এবং কারখানার গাড়িসহ বিভিন্ন যানবাহনে হামলা ও ক্ষয়ক্ষতির ঘটনাও ঘটেছে বলে জানা গেছে।
দীর্ঘদিন ধরে উৎপাদন কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ায় উদ্বেগ বাড়ছে পোশাক কারখানার মালিকদের মধ্যে। নির্ধারিত সময়ে বিদেশি ক্রেতাদের কাছে পণ্য পাঠাতে না পারলে রপ্তানি আদেশ বাতিল হওয়ার আশঙ্কা করছেন তারা।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশের প্রধান রপ্তানি খাত তৈরি পোশাকশিল্পে এ ধরনের অস্থিরতা দীর্ঘায়িত হলে উৎপাদন ও রপ্তানি কার্যক্রমে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের আস্থা ধরে রাখাও কঠিন হয়ে উঠতে পারে।
মজুরি নিয়ে শ্রমিক ও মালিকপক্ষের বিরোধের দ্রুত সমাধান এবং কারখানাগুলোতে স্বাভাবিক উৎপাদন কার্যক্রম ফিরিয়ে আনা এখন শিল্প-সংশ্লিষ্টদের প্রধান প্রত্যাশা।
বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশনের সভাপতি ফজলে শামীম এহসান জাগো নিউজকে বলেন, শ্রমিকদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতেই সরকার মজুরি বোর্ড গঠন করেছে। এই বোর্ড তৈরি পোশাকশিল্পের শ্রমিকদের জন্য নতুন মজুরি কাঠামো নির্ধারণে সুপারিশ করবে। তাই মজুরি বোর্ড গঠনের পরও শ্রমিকদের আন্দোলন অব্যাহত রাখার কোনো যৌক্তিকতা নেই বলে মনে করেন তিনি।
তিনি বলেন, মজুরি নির্ধারণের জন্য সরকার যখন একটি আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু করেছে, তখন আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টির সমাধানের সুযোগ রয়েছে। এ অবস্থায় আন্দোলন ও কর্মবিরতি অব্যাহত থাকলে কারখানার উৎপাদন ব্যাহত হবে। এতে নির্ধারিত সময়ে বিদেশি ক্রেতাদের কাছে পণ্য সরবরাহ করা মালিকদের জন্য কঠিন হয়ে পড়বে। রপ্তানি আদেশ বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে।
ফজলে শামীম এহসান আরও বলেন, উৎপাদন ও সরবরাহব্যবস্থায় দীর্ঘস্থায়ী বিঘ্ন ঘটলে আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের কাছে বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের ভাবমূর্তি ও আস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। একবার ক্রেতাদের আস্থায় সংকট তৈরি হলে তা পুনরুদ্ধার করা সহজ হবে না। এর নেতিবাচক প্রভাব শুধু কারখানার মালিকদের ওপর নয়, পুরো শিল্পের ওপর পড়বে।
শ্রমিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ভাঙচুর ও সহিংসতার পথ পরিহার করে শ্রমিকদের কাজে ফেরা উচিত। কোনোভাবেই শিল্পের উৎপাদন ও রপ্তানি কার্যক্রম ব্যাহত করা সমীচীন নয়। কারণ, শিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হলে শেষ পর্যন্ত এর প্রভাব শ্রমিকদের ওপরও পড়বে। কারখানা বন্ধ হয়ে গেলে কর্মসংস্থান, আয় ও জীবিকার ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
তিনি বলেন, শ্রমিকদের ন্যায্য দাবির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েই মজুরি বোর্ড গঠন করা হয়েছে। তাই সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধৈর্য ধারণ করে মজুরি বোর্ডের সুপারিশের জন্য অপেক্ষা করা এবং শিল্পের স্বার্থে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার আহ্বান জানাচ্ছি।