মাত্র ১টি শব্দের অলৌকিক শক্তি, যাতে শয়তান দূরে সরে যায়!

প্রতিটি মানুষের জীবনে ছোট ছোট কিছু অভ্যাস মাঝে মাঝে এক বিশাল পরিবর্তনের সূচনা করে। আমাদের দৈনন্দিন ব্যস্ততায় আমরা কত শত কাজ শুরু করি, কিন্তু কাজের শুরুটা যদি এমন কিছু দিয়ে হয় যা মনে এনে দেয় প্রশান্তি এবং কাজে আনে সফলতা—তবে কেমন হয়? তেমনই এক মহিমাময় ও বরকতময় শব্দ হলো ‘বিসমিল্লাহ’। মাত্র এক সেকেন্ডের একটি ছোট্ট উচ্চারণ, অথচ এর আধ্যাত্মিক প্রভাব ও অলৌকিক শক্তি অপরিসীম। মহান আল্লাহর পবিত্র নাম স্মরণ করে কোনো কাজ শুরু করলে সেই কাজে যেমন বরকত নেমে আসে, তেমনই মানুষের পরম শত্রু শয়তানও দূরে সরে যেতে বাধ্য হয়।আমরা যা কিছুই করি না কেন, শয়তানের মূল লক্ষ্য থাকে সেই কাজে মানুষকে বিভ্রান্ত করা এবং কাজের কল্যাণ নষ্ট করা। কিন্তু মানুষ যখন আল্লাহর মহিমান্বিত নাম স্মরণ করে ‘বিসমিল্লাহ’ বলে কোনো কাজ শুরু করে, তখন শয়তানের ক্ষমতা চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে যায়। মহান আল্লাহর পবিত্র নামের পাহারায় শয়তান সেখান থেকে দূরে সরে দাঁড়ায় এবং তখন পুরো কাজটি এক স্বর্গীয় নিরাপত্তায় ঢেকে যায়।জীবনধারাকে সুন্দর ও অর্থবহ করতে ‘বিসমিল্লাহ’ অত্যন্ত কার্যকর এক দাওয়াই। খাবার গ্রহণ, ঘরের বাইরে পা রাখা, পড়ালেখা বা যেকোনো শুভ কাজ—সবকিছুতেই আল্লাহর নাম যুক্ত হলে কাজের মান বহু গুণ বেড়ে যায়। মাত্র ১ সেকেন্ডে উচ্চারিত এই একটি শব্দে লুকিয়ে আছে আল্লাহর প্রত্যক্ষ সাহায্য, জীবনের সুরক্ষা এবং অনাবিল কল্যাণ।ইসলামি শরিয়ত ও পবিত্র গ্রন্থে বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম-এর মর্যাদা অত্যন্ত উঁচুতে স্থাপন করা হয়েছে। মহান আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনের শুরুতেই এই মহান আয়াতের নির্দেশ করে বান্দাকে পাঠের শিক্ষা দিয়েছেন—

اِقْرَأْ بِاسْمِ رَبِّكَ الَّذِي خَلَقَ

‘পাঠ করুন আপনার প্রতিপালকের নামে, যিনি সৃষ্টি করেছেন।’ (সুরা আল-আলাক: আয়াত ০১)

রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সুন্নাহ ও হাদিস

মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) যেকোনো ভালো কাজের শুরুতে ‘বিসমিল্লাহ’ বলার প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন। ‘বিসমিল্লাহ’ বলে কাজ শুরু করলে শয়তানের প্রভাব কীভাবে দূর হয়, সে প্রসঙ্গে হাদিসে চমৎকার বর্ণনা এসেছে, হজরত জাবের ইবনে আবদুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে বলতে শুনেছেন—

 

إِذَا دَخَلَ الرَّجُلُ بَيْتَهُ، فَذَكَرَ اللهَ عِنْدَ دُخُولِهِ وَعِنْدَ طَعَامِهِ، قَالَ الشَّيْطَانُ: لَا مَبِيتَ لَكُمْ، وَلَا عَشَاءَ

‘যখন কোনো ব্যক্তি তার ঘরে প্রবেশকালে এবং আহারের সময় আল্লাহকে স্মরণ করে (বিসমিল্লাহ বলে), তখন শয়তান (তার সঙ্গীদের) বলে, ‘তোমাদের রাত যাপনের কোনো জায়গা রইল না এবং রাতের খাবারেরও কোনো অংশ রইল না।’ (মুসলিম ২০১৮)

আমাদের জীবনকে সাজাতে বড় বড় প্রস্তুতির চেয়ে ছোট ছোট সুন্দর অভ্যাসের মূল্য অনেক বেশি। ‘বিসমিল্লাহ’ হলো সেই চাবিকাঠি, যা আমাদের প্রতিটি কাজের দুয়ার খুলে দেয় আল্লাহর রহমতের দিকে। আসুন, আজ থেকেই শপথ নিই— আমাদের প্রতিটি পদক্ষেপে, ছোট-বড় যেকোনো শুভ সূচনায় আমরা উচ্চকিত কণ্ঠে ও সশ্রদ্ধ চিত্তে উচ্চারণ করব ‘বিসমিল্লাহ’। এ উচ্চারণে আল্লাহর অশেষ সাহায্য ও বরকতের আলোয় আলোকিত হোক আমাদের প্রতিটি মুহূর্ত।