একসময় যে নদীর পানিতে চলত সেচ, জালে ধরা পড়ত মাছ, সেই সুতাং নদী এখন শিল্পবর্জ্যে কালো আর দুর্গন্ধে ভারী। নদীর পানি জমিতে দিলে মরে যাচ্ছে ধানের চারা, মাছ হারিয়ে যাচ্ছে জলাশয় থেকে। দূষিত পানি পান করে মারা যাচ্ছে গবাদিপশু ও হাঁস-মুরগি।
নদীর ওপর নির্ভরশীল কৃষক, জেলে ও সাধারণ মানুষের জীবন-জীবিকা পড়েছে সংকটে। হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জের অলিপুর এলাকার শিল্পকারখানার বর্জ্য খাল হয়ে সুতাং নদীতে মিশছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
জানা যায়, ভারত ও বাংলাদেশের আন্তঃসীমান্ত নদী সুতাংয়ের উৎপত্তি ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যে। প্রায় ৮২ কিলোমিটার প্রবাহিত হয়ে চুনারুঘাট, হবিগঞ্জ সদর ও লাখাই উপজেলার ওপর দিয়ে কুশিয়ারা নদীতে মিশেছে। এই তিন উপজেলার শতাধিক গ্রামের মানুষের কৃষি ও মৎস্য আহরণের অবলম্বন ছিল নদীটি।
স্থানীয়দের ভাষ্য, ১০-১১ বছর আগে শায়েস্তাগঞ্জের অলিপুরে ১৪-১৫টি শিল্পকারখানা গড়ে ওঠে। এসব প্রতিষ্ঠানের বর্জ্য শৈলজুড়া খাল হয়ে সরাসরি সুতাং নদীতে ফেলা হচ্ছে। অধিকাংশ কারখানায় ইটিপি নেই, থাকলেও তা বন্ধ রাখা হয়।
২৭ হাজার হেক্টর জমির কৃষি হুমকিতে:
কৃষকদের তথ্য অনুযায়ী, সুতাং নদীর পানি ব্যবহার করে হবিগঞ্জ সদর ও লাখাই উপজেলায় প্রায় ২৭ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো ধানের চাষ হতো। এখন দূষিত পানির কারণে ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে, এতে সেচ খরচ দ্বিগুণ বেড়েছে। অনেক জমি অনাবাদি থাকছে।
মৎস্যজীবী বাবুল দাস বলেন, ‘৮-৯ বছর আগেও সুতাং নদ থেকে মাছ ধরে বিক্রি করেছি। এখন মাছ তো দূরের কথা, পোকামাকড়ও নেই।’
হবিগঞ্জ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভাষক ইফতেখার আহমেদ ফাগুন বলেন, ‘পানি ও মাছের নমুনায় মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। ভৌত-রাসায়নিক বৈশিষ্ট্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।’
বাপা’র সহসভাপতি তোফাজ্জল সোহেল বলেন, ‘বারবার ইটিপি ব্যবহারের দাবি জানিয়েও কোনো লাভ হয়নি। অপরিকল্পিত শিল্পায়ন পরিবেশের বিপর্যয় ঘটাচ্ছে।’
পরিবেশ অধিদপ্তর হবিগঞ্জের উপপরিচালক ড. মো. ইউসুফ আলী বলেন, ‘বিষয়টি মনিটরিং করা হচ্ছে, নমুনা সংগ্রহ করে তদন্ত চলছে।’
জেলা প্রশাসক ড. জিএম সরফরাজ বলেন, ‘ঢাকা থেকে একটি বিশেষজ্ঞ দল তদন্ত করে গেছে, প্রতিবেদন পেলেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’