কাঁঠাল নিয়ে হত্যাকাণ্ডে জড়িতরা ছাড় পাবে না : শান্তিগঞ্জে ডিআইজি

শান্তিগঞ্জ প্রতিনিধি :: সিলেট রেঞ্জের ডিআইজি শাহ মিজান শাফিউর রহমান, বিপিএম (বার) পিপিএম বলেছেন, সামান্য কাঁঠাল নিলাম নিয়ে হত্যাকান্ড অত্যান্ত নিন্দনীয় এবং লজ্জাজনক ঘটনা। এ ঘটনায় জড়িত কাউকে ছাড় দেয়া হবে না৷ ঘটনার সাথে জড়িত কেউ দেশত্যাগ করতে পারবে না। যারা ঘটনায় কলকাঠি নাড়িয়েছে এদেরকে দ্রুত গ্রেফতার করা হবে।

 

সোমবার সকালে উপজেলার জয়কলস ইউনিয়নের আলমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গনে শান্তিগঞ্জ থানা পুলিশের আয়োজনে আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন৷

 

ডিআইজি বলেন, সমাজে কিছু লোক আছে সবসময় বিশৃঙ্খলা লাগিয়ে রাখতে চায়। এরা বিভিন্ন দাঙ্গার হোতা হিসেবে কাজ করে এদের তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। পাশাপাশি সমাজের ঘুষখোর-সুদখোরদের তালিকাও হচ্ছে এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। যারা এলাকার শান্তি নষ্ট করতে চায় এদের প্রতিহত করতে হবে। অযথা কাউকে হয়রানি করা পুলিশের কাজ নয়। যারা মূলহোতা তাদের খুজে বের করে অতিদ্রুত গ্রেফতার করতে থানা পুলিশকে নির্দেশ দেন তিনি।

 

সুনামগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. এহসান শাহের সভাপতিত্বে ও সার্কেল এএসপি শুভাশীষ ধরের সঞ্চালনায় সভায় অন্যান্যদের মাঝে বক্তব্য রাখেন শান্তিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার আনোয়ার উজ জামান, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সিতাংশু শেখর ধর সিতু, সাধারণ সম্পাদক হাসনাত হোসেন, উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান প্রভাষক নূর হোসেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রাজন কুমার দাস, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান দুলন রানী তালুকদার ও সাবেক চেয়ারম্যান হাজী আবুল কালাম।

 

স্বাগত বক্তব্য রাখেন শান্তিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালেদ চৌধুরী।

 

এসময় উপস্থিত ছিলেন, জয়কলস ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল বাছিত সুজন, পাথারিয়া ইউপি চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম, শিমুলবাঁক ইউপি চেয়ারম্যান শাহিনুর রহমান শাহিন, পূর্ব বীরগাঁও ইউপি চেয়ারম্যান রিয়াজুল ইসলাম, পূর্ব পাগলা ইউপি চেয়ারম্যান মাসুক মিয়া, পশ্চিম পাগলা ইউপি চেয়ারম্যান জগলুল হায়দার প্রমুখ।

 

উল্লেখ্য, গত শুক্রবার জুম্মার নামাজের পর মসজিদে দান করা একটি কাঁঠাল নিলামকে কেন্দ্র করে হাসনাবাদ গ্রামের দ্বীন ইসলাম ও মালদার আলীর পক্ষের লোকদের মধ্যে প্রথমে কথা কাটাকাটি হয়। এর জেরে সোমবার সকালে উভয় পক্ষের লোকজনের মধ্যে সংঘর্ষে ৩ নিহত হন।

 

এদিকে ঘটনার ৬ দিন পর গতকাল রোববার সংঘর্ষের ঘটনায় দ্বীন ইসলাম গোষ্ঠীর নিহত নুরুল হকের ভাই তফজ্জুল হক ও বাবুল মিয়ার ভাই ফারুক আহমদ বাদি হয়ে রোববার মালদার মিয়ার পক্ষের ১৬৩ জনকে আসামি করে পৃথক দু’টি মামলা দায়ের করেন।

 

১

জগন্নাথপুরে হত্যা মামলার আসামিদের বাড়িঘরে ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগ ​জগন্নাথপুর প্রতিনিধি: সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার মীরপুর ইউনিয়নের উত্তর গড়গড়ি গ্রামে একটি হত্যা ঘটনার পর প্রতিপক্ষের অন্তত বেশ কয়েকটি বাড়িঘরে দফায় দফায় হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগ উঠেছে।গত ১৮ অক্টোবর রাতে শূন্য বাড়িগুলোতে অগ্নি সংযোগ করা হয়। ভুক্তভোগীদের দাবি, জগন্নাথপুর থানা পুলিশ এ বিষয়ে কোনো মামলা নিচ্ছে না। হামলায় বসতঘর ও খামার থেকে গবাদিপশু, স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা লুট করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো অভিযোগ করেছে। ​ক্ষতিগ্রস্ত পক্ষ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই আসামিপক্ষের পরিবারগুলো চরম আতঙ্কে রয়েছে। কয়েকটি বাড়ি পুরো পুরুষশূন্য হয়ে পড়েছে। আর এই শূন্য বাড়িগুলোকে লক্ষ্য করে দফায় দফায় হামলা চালানো হচ্ছে। এমনকি গত রাতেও আসামিদের বসতঘরে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়। ​গতকাল ১৯ অক্টোবর সরেজমিনে উত্তর গড়গড়ি গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, পুরুষশূন্য বাড়িগু রয়েছে, পরিত্যক্ত বাড়িগুলোতে, দফায় দফায় অগ্নিসংযোগ করে যাচ্ছে, প্রতিপক্ষরা, থানায় অভিযোগ করলেও, কোন ব্যবস্থা নিচ্ছে না। ঘরের ভেতরের আসবাবপত্র ভেঙে চুরমার করে যত্রতত্র ছিটিয়ে রাখা হয়েছে এবং আগুনে পুড়িয়ে ছাই করে দেওয়া হয়েছে। ঘটনার পর থেকে পরিবারের পুরুষ সদস্যরা আত্মগোপনে থাকায় নারী ও শিশুরা চরম মানবেতর জীবনযাপন করছেন এবং বাধ্য হয়ে আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন। ​হামলা, লুটপাট ও ক্ষয়ক্ষতির ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে সুনামগঞ্জ আদালত ও জগন্নাথপুর থানায় মোট চারটি পৃথক লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। এর মধ্যে সুনামগঞ্জের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি সিআর মামলা (মামলা নং— ১৮৮/২০২৬) দায়ের করেছেন মোছা. ফাতেমা বেগম (৩৮)। এই মামলায় স্থানীয় ১৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।