দিরাই-শাল্লায় মনোনয়ন পেতে আব্দুল্লাহ আল মাহমুদের গণসংযোগ

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি :: আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে গণসংযোগ চালাচ্ছেন সুনামগঞ্জ-২ (দিরাই-শাল্লা) সংসদীয় আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী শাল্লা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ (আলামিন চৌধুরী)।

 

প্রতিদিনের কর্মসূচি হিসেবে সোমবার দিরাই উপজেলার রফিনগর ইউনিয়নের বলনপুর বাজার, নোয়াগাঁও শিব বাজার, বাংলাবাজার, খাগাউরা বাজারসহ বিভিন্ন গ্রামে গণসংযোগ ও স্থানীয় নেতাকর্মীদের সাথে মতবিনিময় সভা করেন তিনি।

 

সুনামগঞ্জ জেলার সুনামগঞ্জ-২ (দিরাই-শাল্লা) আসনে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন পেতে আজ দিনভর গণসংযোগ ও মতবিনিময় সভা করেছেন তিনি । শাল্লা উপজেলার হাওরবেষ্টিত শ্রীহাইল গ্রামে সম্ভান্ত্র মুসলিম আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ। ছাত্র রাজনীতি থেকে উঠে আসা চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাষ্টার্স শেষ করে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে যোগ দেন। পরবর্তীতে শাল্লা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন তিনি।

 

বর্তমানে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে সরকারের উন্নয়নমূলক কাজ জনসাধারণের মাঝে প্রচারের জন্যে ব্যস্ত সময় পার করছেন তিনি। সোমবার দিরাই উপজেলার কয়েকটি বাজার ও ইউনিয়নে জনতার সাথে মতবিনিময় করে সরকারের উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরেন আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ।

 

এসময় চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ বলেন, মানুষ পরিবর্তন চায়, জনগণের কল্যাণে ও দেশ উন্নয়নের লক্ষ্যেই এলাকায় দিনরাত পরিশ্রম করে যাচ্ছি । এই আসনে এর আগে যাকেই দল মনোনয়ন দিয়েছে তার পক্ষেই কাজ করেছি। দলের বাহিরে কখনও অবস্থান নেইনি। এবার আশা করছি জননেত্রী শেখ হাসিনা আমার দিকে এবং দিরাই-শাল্লা উপজেলার জনগণের দিকে দৃষ্টি দিবেন।

 

এবছর যদি আমাকে মনোনয়ন দেয়া হয় আমি জনগণের সার্বিক কল্যাণে কাজ করে যাব। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ দিরাই-শাল্লা আসনে থেকে বিপুল ভোটে নির্বাচিত আসনটি নেত্রীকে উপহার দিতে পারবো ইনশাল্লাহ।

 

গণসংযোগে দিরাই-শাল্লার স্থানীয় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগসহ বিভিন্ন স্তরের নেতৃবৃন্দরা তার সঙ্গে ছিলেন।

 

১

জগন্নাথপুরে হত্যা মামলার আসামিদের বাড়িঘরে ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগ ​জগন্নাথপুর প্রতিনিধি: সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার মীরপুর ইউনিয়নের উত্তর গড়গড়ি গ্রামে একটি হত্যা ঘটনার পর প্রতিপক্ষের অন্তত বেশ কয়েকটি বাড়িঘরে দফায় দফায় হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগ উঠেছে।গত ১৮ অক্টোবর রাতে শূন্য বাড়িগুলোতে অগ্নি সংযোগ করা হয়। ভুক্তভোগীদের দাবি, জগন্নাথপুর থানা পুলিশ এ বিষয়ে কোনো মামলা নিচ্ছে না। হামলায় বসতঘর ও খামার থেকে গবাদিপশু, স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা লুট করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো অভিযোগ করেছে। ​ক্ষতিগ্রস্ত পক্ষ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই আসামিপক্ষের পরিবারগুলো চরম আতঙ্কে রয়েছে। কয়েকটি বাড়ি পুরো পুরুষশূন্য হয়ে পড়েছে। আর এই শূন্য বাড়িগুলোকে লক্ষ্য করে দফায় দফায় হামলা চালানো হচ্ছে। এমনকি গত রাতেও আসামিদের বসতঘরে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়। ​গতকাল ১৯ অক্টোবর সরেজমিনে উত্তর গড়গড়ি গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, পুরুষশূন্য বাড়িগু রয়েছে, পরিত্যক্ত বাড়িগুলোতে, দফায় দফায় অগ্নিসংযোগ করে যাচ্ছে, প্রতিপক্ষরা, থানায় অভিযোগ করলেও, কোন ব্যবস্থা নিচ্ছে না। ঘরের ভেতরের আসবাবপত্র ভেঙে চুরমার করে যত্রতত্র ছিটিয়ে রাখা হয়েছে এবং আগুনে পুড়িয়ে ছাই করে দেওয়া হয়েছে। ঘটনার পর থেকে পরিবারের পুরুষ সদস্যরা আত্মগোপনে থাকায় নারী ও শিশুরা চরম মানবেতর জীবনযাপন করছেন এবং বাধ্য হয়ে আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন। ​হামলা, লুটপাট ও ক্ষয়ক্ষতির ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে সুনামগঞ্জ আদালত ও জগন্নাথপুর থানায় মোট চারটি পৃথক লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। এর মধ্যে সুনামগঞ্জের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি সিআর মামলা (মামলা নং— ১৮৮/২০২৬) দায়ের করেছেন মোছা. ফাতেমা বেগম (৩৮)। এই মামলায় স্থানীয় ১৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।