জাতীয়

জগন্নাথপুরের তরুণীর প্রেমে চীনা থেকে আসে যুবক, পুলিশের নিরাপত্তায় হস্তান্তর

জগন্নাথপুরের তরুণীর প্রেমে চীনা থেকে আসে যুবক, পুলিশের নিরাপত্তায় হস্তান্তর

জগন্নাথপুর ( সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি:

সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার সৈয়দপুর শাহার পাড়া ইউনিয়নে এক তরুণীর প্রেমের টানে চীন থেকে সুদূর বাংলাদেশে ছুটে এসেছেন এক চীনা যুবক। শুধু তাই নয়, ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে ওই তরুণীকে বিয়েও করেছেন তিনি। তবে এ নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্য ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে পুলিশ তাকে নিরাপত্তা হেফাজতে নেয়। পরবর্তীতে বৈধ কাগজপত্র ও ধর্মান্তরিত হওয়ার প্রমাণপত্র প্রদর্শনের পর তাকে শ্বশুরবাড়ির লোকজনের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়।​গত সোমবার (৩ নভেম্বর) রাতে সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলার তাজপুর ইউনিয়নের কাদিপুর গ্রামের দিঘিরপাড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।চীনা যুবকের নাম লিও ফাভিন। ইসলাম ধর্ম গ্রহণের পর তিনি নিজের নাম রেখেছেন ‘আব্দুল্লাহ’। অন্যদিকে বাংলাদেশি তরুণী ছামিয়া আক্তার জগন্নাথপুর উপজেলার শাহারপাড়া গ্রামের স্থায়ী বাসিন্দা জামাল মিয়ার মেয়ে। জামাল মিয়া পরিবার নিয়ে বর্তমানে সিলেটের ওসমানীনগরে ভাড়াটিয়া বাসায় বসবাস করেন।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জামাল মিয়ার মাদ্রাসা পড়ুয়া মেয়ে ছামিয়া আক্তারের সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে চীনের জিয়াংসি এলাকার বাসিন্দা লিও ফাভিনের পরিচয় হয়। একপর্যায়ে তাঁদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। দীর্ঘদিনের সেই সম্পর্কের টানেই প্রায় এক সপ্তাহ আগে বাংলাদেশে এসে ছামিয়ার ওসমানীনগরের বাসায় ওঠেন ওই চীনা নাগরিক।এদিকে সোমবার বিকেলে বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকার উৎসুক জনতা ওই বাড়িতে ভিড় জমান। এ সময় চীনা নাগরিকের উপস্থিতি এবং তাঁর ধর্ম ও বিয়ে নিয়ে এলাকায় নানা গুঞ্জন ও উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে রাত ১১টার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লিও ফাভিনকে নিরাপত্তা হেফাজতে থানায় নিয়ে আসে। পরে রাতেই শ্বশুরবাড়ির লোকজন থানায় গিয়ে লিওর ইসলাম ধর্ম গ্রহণের প্রমাণপত্র ও বিয়ের বৈধ কাগজপত্র পুলিশকে দেখালে পুলিশ তাঁকে ছেড়ে দেয়।

​চীনা নাগরিক লিও ফাভিন জানান, অনলাইনেই ছামিয়ার সঙ্গে তাঁর পরিচয় ও প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। সেই সম্পর্কের টানেই তিনি বাংলাদেশে আসেন এবং আইনগত প্রক্রিয়া ও ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে ছামিয়াকে বিয়ে করেছেন।

এলাকার লোকজন জানান, চিন থেকে আসা অনেক যুবক, বিয়ে করে, মেয়েদের সাথে প্রতারনা করছে। এই যুবক কে আমাদের সন্দেহ হচ্চে। চিনা যানা নেই।এক দেশ থেকে আরেক দেশে এসে বিয়ে।।

জগন্নাথপুর উপজেলা সৈয়দ পুর শাহার পাড়া ইউনিয়ন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান এমদাদ আহমেদ বলেন ঘটনা শুনেছি, মেয়ে পরিবার ওসমানী নগর এলাকায় বাসা ভাড়া থাকে।চিন থেকে যুবক এসে বিয়ে করেছে।।

এ বিষয়ে ওসমানীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম মোস্তফা জানান, মূলত নিরাপত্তাজনিত কারণেই ওই চীনা নাগরিককে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছিল। পরে তাঁর ধর্মান্তরিত হওয়া এবং বিয়ের বৈধ কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করে শ্বশুরবাড়ির লোকজনের জিম্মায় তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।